Famine and Dearth

Chaitanyamangal

About this text

Introductory notes

Dr. Bimanbihari Majumdar and Sukhamay Mukhopadhyay edited the version of Chaitanyamangal, brought out by the Asiatic Society as part of its Bibliotheca Indica series in 1971. Jayananda was a devotee of Chaitanyadev the Bhakti Saint who popularised Vaishnavism in the 16th Century. The editors believe Jayananda, an younger contemporary of Chaitanya, composed the work between 1550 to 1560. The work stands distinct from contemporary Vaishnava literature as it follows the Mangalkavya tradition. The work was composed in the form of ballads to be sung across villages.

Chaitanyamangal also, true to the tradition of Mangalkavyas, offers light on the lives and practices of the contemporary village society. The section on Visnupriya's Baramasya may be mentioned in this regard. Such Baramasya's are not regular features of Mangalkavya though they are absent in Vaishnava literature.

Selection details

Chaitanyamangal also, true to the tradition of Mangalkavyas, offers light on the lives and practices of the contemporary village society. The section on Visnupriya's Baramasya may be mentioned in this regard. Such Baramasya's are not regular features of Mangalkavya though they are absent in Vaishnava literature.

[Page 10]

1. নদীয়া-১

শ্রীহট্ট দেশের মধ্যে জয়পুর গ্রাম ।
সর্বসুখময় স্থান ক্ষিতি অনুপাম ।।
দীঘি সরোবর কূপ তড়াগ সোপান ।
দেউল দেহারা মঠ নানা পুষ্পোদ্যান ।।
সুতার শঞ্চম(?) ঘড় নগর চাতর ।
ইষ্টকারচিত দ্বার প্রাচীর ভিতর ।।
নাটশাল পাঠশাল চৌখন্ডী বাঙ্গালি ।
ধ্বজ কল হংস পারাবত করে কেলি ।।
নারিকেল পনস গুবাক আম্র বটে ।
বকুল চম্পক তাল কদম্ব নিকটে ।।
অশ্বত্থ তেঁতুল নিম্ব জাম্বু খর্জূরে ।
নারেঙ্গ ছোলঙ্গ বিল্ব লবঙ্গান্তশষ্পুরে ।।
হিঙ্গুল হরিতাল স্তম্ভ চন্দ্রার্ক তিলাকে ।
ময়ূর সারস শুক রহি দ্বার মুখে ।।
চৌখন্ডী চৌতারা টঙ্গী কত শাস্ত্রশালা ।
প্রাসাদ মন্দির প্রপা রক্ষ জাল মালা ।।
পূর্বে সরস্বতী উত্তরে গোমতী ।
পশ্চিমে ঢোল সমুদ্র দক্ষিণে করাতি ।।
জয়পুরে যত যত ব্রাম্ভনের ঘর।
দিব্যমূর্তি মহাবিদ্যা মহা ধনেশ্বর ।।
রবির মহাকুল মহাবংশ প্রসূত ।
দিগ্বিজয়ী নিজ দর্শন ব্যাখ্যা চতুর্মুখ ।।
হেন বংশে জগন্নাথ মিশ্রের উৎপত্তি ।
শচী বিভা দিল নীলাম্বর চক্রবর্তী ।।
বাসুদেব চক্রবর্তী জন্মিলা নিকটে ।
নন্দ যশোদা লইলা জমুনার জলে ।
রামকৃষ্ণ অবশ্য জম্মিব মোর কুলে ।।
একচাকা খলকপুর গ্রাম রম্য স্থান ।
রম্য রাঢ় দেশ পূর্ব গোকুল সমান ।।
তাহে নন্দ যশোদা জন্মিব দ্বিজ বংশে।
পদ্মাবতী পরমানন্দ নাম ধরি শেষে ।।
দ্বিজকুলে দশরথ কৌশল্যাদি সতী ।
ধরিল মাধবানন্দ নাম লভ্যমতী ।।
যে যে বংশে যে জন্মিব প্রেমসুখে ।
উত্তরখন্ডে সকল কহিব একে একে ।।
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদ্বন্দ্ব ।
চৈতন্য মঙ্গল কিছু রচে, জয়ানন্দ ।।
[Page 10]

2. নদীয়া-২

শ্রীহট্ট দেশে অনাচার দুর্ভিক্ষ জন্মিল ।
ডাকা চুরি অনাবৃষ্টি মড়ক লাগিল ।।
উচ্ছন্ন হইল দেশ অরিষ্ট দেখিয়া ।
নানা দেশে সর্বলোক গেল পালাইয়া ।।
[Page 11]
নীলাম্বর চক্রবর্তী মিশ্র জগন্নাথে ।
সবান্ধবে জয়পুরে ছাড়িল উৎপাতে ।।
কোন দেশে রহিব সভার অনুমান ।
এ দেশে না পাব রক্ষা চল অন্যস্থান ।।
আমা সভার বসতি যোগ্য গঙ্গার কুলে ।
নন্দ যেন উৎপাতে ছাড়িলেন গোকুলে ।।
পূর্বে মোরে কয়্যাছিল এক যতিরাজ ।
এ দেশ ছাড়িয়া যাহ নদীয়া সমাঝ ।।
অনাচার দেশে বসতি যোগ্য নহে ।
শ্রীহট্টে উত্তম জন তিলার্ধ না রহে ।।
কৃষ্ণ আর্তি রতি মতি সমাজে বসতি ।
তীর্থ প্রীতে ং্যান প্রীতে জিতেন্দ্রিয় যতি ।।
গঙ্গা বৈষ্ণব মহাপ্রসাদে বিশ্বাস ।
অল্প ভাগ্যে নহে লোক এসব প্রকাশ ।।
গঙ্গাস্নান করিব বসে নবদ্বীপে ।
বৈকুণ্ঠে নিবাস আর কিবা জপতপে ।।
দিব্য দোলা চড়ি মিশ্র সবান্ধবে আসি ।।
গঙ্গা নবদ্বীপ দেখে প্রেমানন্দে ভাসি ।
ভূমি স্বর্গ নবদ্বীপ পৃথিবীমণ্ডলে ।
নানা বর্গে লোক বসে জাহ্নবীর কুলে ।।
চিন্তিয়া চৈতন্যচন্দ্রচরণকমলে ।
জয়ানন্দানন্দে গাএ প্রভুর মঙ্গল ।।
[Page 11]

3. নদীয়া-৩

নানা চিত্রে ধাতু বিচিত্র নগরী
নানা জাতি বস্যে তথা ।
চূর্ণ বিলেপিত দেউল দেহারা
নানা বর্ণে বৃক্ষলতা ।।
জয় জয় ধন্য নদীয়া নগরী
অলকানন্দার কুলে ।
কমলা ভাবিনী ক্রীড়া করে তথি
রাজিত বকুল মালে ।।
প্রতি ঘরের উপরি বিচিত্র কলস
চঞ্চল পতাকা উড়ে ।
পূর্বে যেন ছিল অযোধ্যা নগরী
বিজুরী ছটাক পড়ে ।।
নাট পাঠশাল দীঘি সরোবর
কুপ তড়াগ সোপান ।
মঠ মন্ডপ সুযন্ত্রিত চত্বর
কুন্দ তুলসী উদ্যান ।।
প্রতি দ্বারে শোভে বিচিএ কপাট
প্রতি কুলী পড়ে হাট ।
প্রতি কুলী নৃত্য গীত আনন্দিত
প্রতি ঘরে বেদপাঠ ।।
[Page 12]
দ্বিজরূপ ধরি দেবতা গন্ধর্ব
জন্ম লভিল নবদ্বীপে ।
হআ দ্বিজ নারী ইন্দ্র বিদ্যাধরী
সঙ্গীত গঙ্গার সমীপে ।।
স্বর্গ ছাড়ি যত গন্ধর্ব মন্ডলী
জন্মিল বৈদ্য বনিতা ।
দেব ঋষি মুনি দ্বিজ রূপ ধরি
অধ্যয়ন শ্রুতি গীতা ।।
গোধুলি সমএ মৃদঙ্গ পাখা তহি
চন্দ্রাতপ শোভে করে।।
ইষ্টকা রচিত প্রাচীর প্রাঙ্গন
সুযন্ত্রিত গৃহ দ্বার ।।
হিঙ্গুল হরিতালে কাচ ঢাল
চৌখন্ডী চৌকার শাল ।
শালে রসাল বিশালক স্তম্ভ
রাজিত চন্দ্রার্ক তিলাকে ।
ময়ূর শুক সারস পারাবত
সিংহ হংস পাখা ।
বিচিত্র চামর চন্দ্রাতপ
প্রতি ঘরে সুন্দর শাখা ।।
ডাবর বাটা গুবাক সম্পুট
দর্পণ রসবাটিকা ।
তাম্র হান্ডি রস পিত্তল কলস
বারানসীর ত্রিপদিকা ।।
শঙ্খ বাটাবাটি সরঙ্গি থাল
রসময় সব খুরি ।
তিরোহিত গাড়ু তাম্র মুখারস মন্ডল
শীতল পিত্তল ঝারি ।।
পাষাণ ভাজন অতি সুগঠন
খড়িকা রঙ্গিকা পড়া ।
উড়িআ গৌড়িয়া কুলুপা চিরনি
বিচিত্র শাঁপুড়া ।।
টাড় গাঁঠ্যা কড়ি হিরন্য মাদুলী
কেয়ূর কঙ্কন রত্ন নূপুরে ।
হেম কিআ পাতা বিদ্রুম মুকুতা
কাশ্মীর দেশের খুরে ।।
তবক বসর পান কাটা কাঞ্চী
দেশের বিচিত্র বেণী ।
পাটানেত ভোট সকলাত কম্বল
শ্রীরাম খানি জমখা ।
ভোট্ট দেশের ইন্দ্রনীলমণি
লক্ষ্মীবিলাস তারকা ।।
[Page 13]
লেখিতে না পারি দাস দাসী যত
মিশ্রের মন্দিরে খাটে ।
যে যে দ্রব্য সব ভুবনদুর্লভ
বিকাএ নদ্যার হাটে ।।
চিন্তিয়া চৈতন্য গদাধর প্রাণনাথ
পদপঙ্কজ মকরন্দে ।
চৈতন্য মঙ্গল নিগম নিগূঢ়
গাএ দ্বিজ জয়ানন্দে ।।
[Page 13]

4. নদীয়া-৪

ধন্য ধন্য সপ্তদ্বীপ মধ্যে জম্বুদ্বীপ ।
ধন্য ধন্য গৌড় দেশ উৎকল সমীপ ।।
একচাকা খলকপুর পদ্মাবতী কক্ষে ।
জন্মিলা অনন্ত মাঘ মাসে শুক্ল পক্ষে ।।
জাতকর্ম করিয়া ঠাকুরে নাম থুইল ।
বালক্রীড়া করি কত আত্ম প্রকাশিল ।।
উন্মাদ বৈরাগ্য মহা ঔদ্ধত্য দেখিয়া ।
শাস্ত্র শালে পড়াইল যজ্ঞসুত্র দিয়া ।।
মাতা পিতা ভ্রাতা কত দেখিল প্রকাশ ।
অষ্টাদশ বৎসরে ছাড়িল গৃহবাস ।।
প্রয়াগেতে যতিরাজ ঈশ্বরপুরী ।
সন্ন্যাস করিল তথা গুরু লক্ষ্য করি ।
অবধূত প্রেমে নিত্যানন্দ নাম ধরি ।।
কাশীপুরে রহিলা সকল তীর্থ করি ।
বঙ্গে বামনবলা গ্রাম লভ্যবতী ঠাকুরাণী ।
তার গর্ভে জন্মিল অদ্বৈত শিরোমণি ।।
কমলাক্ষ নাম সুতিকাগৃহ বাসে ।
সুপ্রকাশে অদ্বৈত পদবী হবে শেষে ।।
শচীগর্ভে অষ্টকন্যা যথাকালে হৈল
দৈব নিবন্ধে দিন কথোকাল গেল ।।
জগন্নাথ মিশ্র হইল মিশ্র পুরন্দ্র ।
সৎকবি পন্ডিত মহা তার্কিক সুন্দর ।।
উগ্রতপ দেখি সর্বলোক চমৎকার ।
স্নান সন্ধ্যা নিত্য শ্রাদ্ধ দেব আচার ।।
বলি হোম জপ সন্ধ্যা পূজা ধূপ দীপে ।
শ্রীভাগবত পাঠ গোবিন্দ সমীপে ।।
আর এক পুত্র হৈল বিশ্বরূপ নামে ।
দুর্ভিক্ষ জন্মিল বড় নবদ্বীপ গ্রামে ।।
নিরবধি ডাকা চুরি অরিষ্ট দেখিয়া ।
নানা দেশে সর্বলোক গেল পালাইয়া ।।
তবে জগন্নাথ মিশ্র দেখিয়া কৌতুকে ।
বিশ্বরূপ দশকর্ম করিল একে একে ।।
[Page 14]
আচম্বিতে নবদ্বীপে হৈল রাজভয় ।
ব্রাহ্মণ ধরিয়া রাজা জাতি প্রাণ লয় ।।
নবদ্বীপে শঙ্খধ্বনি শুনে যার ঘরে ।
ধন প্রাণ লএ তার জাতি নাশ করে ।।
কপালে তিলক দেখে যজ্ঞ সুত্র কান্ধে ।
ঘর দ্বার লুটে তার লৌহপাশে বান্ধে ।।
দেউল দেহারা ভাঙ্গে উপাড়ে তুলসী ।
জীবনভএ স্থির নহে নবদ্বীপে বাসী ।।
গঙ্গাস্নানে বিরোধিল হাট ঘাট যত ।
অশ্বত্থ পনস বৃক্ষ কাটে শত শত ।।
পিরল্যা গ্রামেতে বস্যে যতেক যবনে ।
উচ্ছন্ন করিল নবদ্বীপের ব্রাহ্মণে ।।
ব্রাহ্মণে যবনে বাদ যুগে যুগে আছে ।
বিষম পিরল্যা গ্রাম নবদ্বীপ কাছে ।।
গৌড়েশ্বর বিদ্যমানে দিল মিথ্যাবাদ ।
নবদ্বীপের বিপ্র তুমার করিব প্রমাদ ।।
গৌড়ে ব্রাহ্মণ রাজা হবে হেন আছে ।
নিশ্চিন্তে না থাকিহ প্রমাদ হএ পাছে ।।
নবদ্বীপের ব্রাহ্মণ অবশ্য হব রাজা ।
গন্ধর্বে লিখন আছে ধনুর্ময় প্রজা ।।
এই মিথ্যা কথা রাজার মনেতে লাগিল ।
নদীয়া উচ্ছন্ন কর রাজা আজ্ঞা দিল ।।
বিশারদসুত সার্বভৌম ভট্টাচারয্য ।
সবংশে উৎকল গেল ছাড়ি গৌড় রাজ্য ।।
উৎকলে প্রতাপ্ররুদ্র ধনুর্ময় রাজা ।
রত্নসিংহাসনে সার্বভৌমের কৈল পূজা ।।
তার ভ্রাতা বিদ্যাবাচস্পতি গৌড়ে বসি ।
বিশারদ নিবাস করিল বারাণসী ।।
বিদ্যাবিরিঞ্চি বিদ্যারণ্য নবদ্বীপে ।
ভট্টাচারয্যশিরোমণি সভার সমীপে ।।
নদীয়া উচ্ছন্ন হৈল শুনি গৌড়েশ্বর ।
রাত্রিকালে স্বপ্ন দেখে মহা ঘোরতর ।।
কালী খড়গ খর্পরধারিণী দিগম্বরী ।
মুণ্ডমালা গলে কাট কাট শব্দ করি ।।
ধরিআ রাজার কেশে বুকে মারি শেল ।
কর্ণরন্ধ্রে নাসারন্ধ্রে ঢালে তপ্ত তেল ।।
আজি তোর গঙ্গায় পেলামু গৌড় পাট ।
সবংশে কাটিমু তোর হস্তী ঘোড়া ঠাট ।।
গৌড়েন্দ্র বলেন মাতা মোর দেহে থাক ।
নবদ্বীপ বসাইব আজি প্রাণ রাখ ।।
নাকে খত দিল রাজা তবে কালী ছাড়ে ।
মুর্ছা গেলা গৌড়েন্দ্র ধরণী তলে পড়ে ।।
প্রভাতে কহিল স্বপ্ন রাজবিশ্বাসে ।
শুনিঞা আশ্চর্জ্য স্বপ্ন সর্বলোকে ত্রাসে ।।
[Page 15]
গৌড়েন্দ্রর আজ্ঞা নবদ্বীপ সুখে বসু ।
রাজকুর নাঞি সর্বলোক চাষ চষু ।।
আজি হইতে হাট ঘাট বিরোধ যে করে ।
রাজকর দন্ডী হএ ত্রিশূল সে পরে ।।
দেউল দেহারা ভাঙ্গে অশ্বত্থ যে কাটে ।
ত্রিশূল চড়াহ তারে নদীয়ার হাটে ।।
বৈদ্য ব্রাহ্মণ যত নবদ্বীপে বস্যে ।।
নানা মহোৎসব করুক মনের সন্তোষে ।।
নাটগীত বাদ্য বাজুক প্রতি ঘরে ঘরে ।
কলসে পতাকা উড়ূক মন্দির উপরে ।।
পুষ্পের বাজার পড়ূ গন্ধের উভার ।
শঙ্খ ঘন্টা বাজুক যন্ত্র জয়কার ।।
পূর্বে যেন ছিল নবদ্বীপ রাজধানী ।
তাহাকে শতেক গুণ অধিক যেন শুনি ।।
নবদ্বীপ সীমাএ যবন যদি দেখ ।
আপন ইৎসাএ মার প্রাণে পাছে রাখ ।।
দেবপূজা কর সুখে য হোম দান ।
হাটঘাট মানা নাঞি কর গঙ্গাস্নান ।।
নবদ্বীপের প্রজাএ কি মোর অধিকার ।
সত্য সত্য বলি আমি সংসারের সার ।।
রাজার আজ্ঞা এ নবদ্বীপ পুন সৃষ্টি ।
শরৎকালে রাত্রিশেষে হইল পুষ্পবৃষ্টি ।।
মহা মহা জন যে ছাড়িআছিল গ্রাম ।
আল্যা সভে হআ পূর্ণকাম ।।
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে নদীয়াখণ্ড রচে জয়ানন্দ ।।
[Page 19]

5. নদীয়া-৯

কেন বা কান্দ বাছা ঘন দুধ তোল ।
কলেতে না রহ আঁখি না মেল ।।
না জানি হইল কোন উদরে ব্যথা ।
কত না খায় তুমি মাএর মাথা ।।
ও না আয় আয় ।
কি লাগি কান্দে মোর গৌরাঙ্গ রায় ।
ছাঁদন অঙ্গখানি দেখিল কে ।
না জানি পাইল কোন দানব দে ।।
মুখে না দেহ স্তন তপত গা ।
কথা না পাইল পুতের উপর বা ।।
মাএর দুঃখ দেখি গৌরাঙ্গ চান্দে
কোলেতে নিন্দ গেল আর না কান্দে ।।
শচী ঠাকুরানীর মনে হইল ইৎসা ।
জয়ানন্দ বলে প্রভুর কান্দনা মিছা ।।
[Page 20]

6. নদীয়া-১১

আর দিন প্রভাতে বালক সব সঙ্গে ।
সুরনদীতীরে বালক্রীড়া করে রঙ্গে ।।
খাট পাট সিংহাসনে বালির আওাশ ।
বালির দেবালয় কেহো করএ প্রকাশ ।।
বালির দেবালএ অন্ন ব্যঞ্জন রন্ধন ।
বালির গোপীনাথে কেহ করে নিবেদন ।।
কেহ কেহ বলে ভাই মহাপ্রসাদ খাই ।
কেহো বলে কয়া খেড়ি খেলি আইস ভাই ।।
চৌদিগে বালক সব গঙ্গাজলে ভাসে ।
মাঝে গৌরাঙ্গ চান্দ করিল প্রকাশে ।।
প্রেমে আকুল গঙ্গা জন নাঞি চলে ।
প্রদক্ষিণ করে গঙ্গা তরঙ্গের ছলে ।।
এথা শচী থাকুরানী ঘরে ঘরে চায়্যা ।
সুরনদী তীরে গেলা উদ্দেশ পাইয়া ।।
রজনী প্রভাতে আইলে ক্রীড়া করিবারে ।
সপ্ত ঘটী হইল কেন না আস মন্দিরে ।
আমার বাপের ঠাকুর হাপুতির বাছা ।
ও মোর গোশারি প্রাণ শচীগর্ভ সাঁচা ।।
ও মোর অমূল্য ধন ও মোর ধিআন ।
ও মোর ঘরের ঠাকুর ও মোর পরান ।।
মাএর বিলাপ শুনি দয়া উপজিল ।
কয়া খেড়ি সঙ্কলিয়া মন্দিরে চলিল ।।
রাজপথ দিয়া নিজ গৃহ প্রবেশিতে ।
হুঙ্কার দিআ পড়ে উচ্ছিষ্ট কুন্ডেতে ।।
সকল উচ্ছিষ্ট হাঁড়ি একত্র করিয়া ।
ব্রহ্ম বাখানিল তার উপরে বসিয়া ।।
সর্বভুত সম করি আত্মবৎ দয়া ।
পুরীষ চন্দন ভেদ এই সব মায়া ।।
যত দিন এ সব প্রকাশ নহে দেহে ।
ততদিন সংসার আচারভ্রষ্ট নহে ।।
এত অনুভব ইহা কহিল বিশেষে ।
রড় দিয়া স্তন পিয়া শচীকোলে হাসে ।।
[Page 21]
চিন্তিয়া চৈতন্য গদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে নদীয়াখণ্ড গাএ জয়ানন্দ ।।
[Page 24]

7. নদীয়া-১৮

পাটের ধড়া পাটের থোপা
সোনারূপার কাঁঠি ।
মণি মুকুতা প্রবাল হার
মদনমোহন লাঠি ।।
[Page 25]
কনক চাঁপার জুতি অঙ্গ
ঝলমল করে ।
রূপ দেখিয়া মদন চান্দ
ক্ষেণে জীএ মরে ।।
আর নাহি খেলাতে জাএ
নগর চাতরে ।
ছাল্যা ধরা রাজার দূত
ফিরে ঘরে ঘরে ।।
আবির চন্দন কুমকুম চূড়া
শ্রীঅঙ্গে সৌরভে ।
ঝাঁকে ঝাঁকে ভ্রমর উড়্যা
বুলে মধুলোভে ।।
কত সৌদামিনী তোমার
অঙ্গে ঝলকে ।
রূপ দেখিয়া কুলবধূ
ঘরে নাঞি থাকে ।।
চাঁচর কেশে বকুল মালা
বদন সুধানিধি ।
কত অনুমানি তুমা
নিরমাইল বিধি ।।
জয়ানন্দ বলে শুন শচীঠাকুরানী ।
মুঞি মরিআ জাঙ তুমার পুত্রের নিছনি ।।
[Page 27]

8. নদীয়া-২১

আর একদিন নবদ্বীপের ভিতরে ।
শিশুগণ সঙ্গে গৌর খেলে ঘরে ঘরে ।।
অনেক বালক সংখ্যা করিতে না পারি ।
কুকুরের ছা এক রড় দিয়া ধরি ।।
আলিঙ্গন দিয়া তীরে বলে দয়ানিধি ।।
এতদিনে তুমারে প্রসন্ন হইল বিধি ।।
গঙ্গাদাস বলি তার নাম থুইল ।
শিকলে বান্ধিআ তার ঘৃতান্নে পুষিল ।।
যথা গৌরাঙ্গ শিশু তথা গঙ্গাদাস ।
তার মুখে হরিনাম করিল প্রকাশ ।।
হরি বল গঙ্গাদাস গৌরচন্দ্র ডাকে ।
হরি ধ্বনি শুনি কুকুর কোথাহ না থাকে ।।
প্রভু বলে এ কুকুর আছিল ব্রাম্ভণ ।
বৈষ্ণবনিন্দক বড় পরায়ণ ।।
বৈষ্ণব মাগিল অন্ন না দিলেক তারে ।
বেদনিন্দ্য শূদ্রে অন্ন খাব মোর ঘরে ।।
বৈষ্ণব ভান্ডি সে দ্বিজে করিল আলাপ ।
সেই ক্রোধে বৈষ্ণব ব্রাম্ভণে দিল শাঁপ ।।
প্রলাপে বৈষ্ণবে দ্বিজ উচ্ছিষ্টান্ন দিল
সেই শাপে নবদ্বীপে কুকুর হইল ।।
[Page 28]
গৌরচন্দ্র ভোজন করিয়া অবশেষ ।
কর্মবন্ধ কুক্কুরের পাপ হইল শেষ ।।
উচ্ছিষ্টান্ন খাইয়া কুকুর গঙ্গাদাস ।
পূর্ব অপরাধ তার সব হৈল নাশ ।।
কথোদিনে কুকুরের শাপান্ত ঘুচিল ।
গঙ্গাএ প্রাণ ছাড়ি কুকুর মুক্ত হইল ।।
আশ্চর্য দেখিঞা নবদ্বীপ লোকে ত্রাস ।
গৌরাঙ্গপ্রসাদে মুক্ত কুকুর গঙ্গাদাস ।।
অসীম চৈতন্যলীলা শুনিতে সুছন্দ ।
গঙ্গাদাস কুকুর ছাড়িল ভবনন্দ ।।
চিন্তিয়া চৈতন্য গদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে নদীয়াখণ্ড গাএ জয়ানন্দ ।।
[Page 32]

9. নদীয়া-২৫

জয় জয় ।।
গৌরচন্দ্রে ভিক্ষা জে দিল নরনারী ।
জন্ম জন্ম লক্ষ্মী তার না ছাড়িব গারি ।।
নীলাম্বর চক্রবর্তী জংগ্যে পূর্ণা দিল ।
অভিষেক তিলক দক্ষিণা উৎসর্গিল ।।
মৌনব্রতী হআ গৌরচন্দ্র গৃহে রহি ।
হবিষ্যান্ন ভোজন করাল্য মাতামহী ।।
দিব্য সিংহাসনে নিদ্রা গেলা বিশ্বম্ভর ।
প্রাতঃ সন্ধ্যা করাইল মিশ্র পুরন্দর ।।
দৈব রমনী দ্বিজ রমনী অনেক ।
পঞ্চকষাএ দ্বিজ পঞ্চামৃত করি অভিষেক ।।
মধ্যাহ্ন সমএ করিহ হবিষ্য ভোজনে ।
অপরাহ্নে সন্ধ্যা কুশশয্যাএ শয়নে ।।
হবিষ্যান্ন ভোজন ত্রিসন্ধ্যা প্রতিদিনে ।
পাসরিল বাল্যক্রীড়া কীর্তন শ্রবনে ।।
ব্রহ্মচারী হইল তুমি হবিষ্যান্ন খায় ।
আমি পড়ি তুমি কেন পড়িতে না জায় ।।
আজি তুমি কোন পুস্তক না লেখ ।
তিন দিবস শূদ্র মুখ নাঞি দেখ ।।
শিশুর বচন শুনি হাসে গৌরচন্দ্র ।
ঠারে কহিল মাএ করিয়া প্রবন্ধে ।।
তিন মোয়া দুগ্ধ লাড়ু সভাকারে দেহ ।
মাল্য চন্দনে তুষিআ সভারে পাঠাহ ।।
এই মতে সভে প্রবোধিল শচীমাতা ।
তবে শচী মাএরে কহিল সর্বকথা ।।
[Page 33]
সাত দিবস ছিল মৌনব্রত হয়্যা ।
অষ্ট দিনে মৌন ভাঙ্গে গুরু আঞগ্যা লয়া ।
সুদর্শন গঙ্গাদাস দুই বিদ্যাগুরু ।
আশীর্বাদ দিতে আইলা রত্নমালা ছিরু ।।
গুরু গুরুপত্নীরে হইলা নমস্কার ।
দিব্যমূর্তি দেখি সভার মনে চমৎকার ।।
চিন্তিয়া চৈতন্য গদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে নদীয়াখণ্ড গাএ জয়ানন্দ ।।
[Page 64]

10. নদীয়া-৫৫

লক্ষ্মী ঠাকুরানী গৌরচন্দ্রের সেবা করি ।
না গেলা বাপের বাড়ি নদিয়া নগরী ।।
শাশুড়ির সেবা হৈতেঁ আন নাঞি মনে ।
গৌরাঙ্গচরণ ধ্যান করি রাত্রি দিনে ।।
একদিন গৌরাঙ্গ রন্ধনশালা গিয়া ।
মাএরে কহিল কিছু হাসিয়া হাসিয়া ।।
বৃদ্ধ শরীর তুমার কত দুঃখ পায় ।
তুমার বহু রান্ধে জদি তুমি অন্ন খায় ।
জদি বলি তুমার বহু তুমার সেবা করি ।
তুমার সেবায় লক্ষ্মী ভবার্ণবে তরি ।।
আজি হৈতে মা তুমি ছাড়হ রন্ধন ।
লক্ষ্মীর রন্ধনে করহ ভোজন ।।
ভাল ভাল করিআ করিল অঙ্গীকার ।
আজি হৈতে লক্ষ্মীর হব রন্ধনের ভার ।।
মাএর বচন শুনি গৌরচন্দ্র হাসে ।
ভোজন করাব কালি শ্রীহরিদাসে ।।
শ্রীনিবাস পন্ডিত ঠাকুর চারি ভাই ।
বাসুদেব মুকুন্দ দত্ত লেখক জগাই ।।
বক্রেশ্বর পন্ডিত ভগাই গঙ্গাদাসে ।
ভোজন করাই কালি পিষ্টক পায়সে ।।
সকল বৈষ্ণবে আজি দেহ নিমন্ত্রণ ।
লক্ষ্মীর রন্ধনে কালি সভার ভোজন ।।
রজনী প্রভাতে গৌরচন্দ্র আজ্ঞা দিল ।
দুখী দাসী মালিনীরে ডাকিয়া আনিল ।।
কেহো চালু কুটে কেহো নারিকেল কুরে ।
খিরি খিরাড়া কেহো দিয়া পিঠা পুরে ।।
কেহো মুগ পিশে কেহো দুগ্ধে দেয় জ্বাল ।
হলিদ্রা পিঠালি বাটে কেহো গুন্ডে ঝাল ।।
কেহো কাষ্ঠ আনে কেহো আনাজ পাখালে ।।
গঙ্গাজলে স্নান করে লক্ষ্মী ঠাকুরানী ।
পরিল বিচিত্র সরু দিব্য বস্ত্রখানি ।।
রন্ধনশালাএ প্রবেশিলা লক্ষ্মী মাতা ।
শচী ঠাকুরানী গেলা দেখাবারে তথা ।।
পঞ্চাশ ব্যাঞ্জন অন্ন রান্ধিল কৌতুকে ।
পিষ্টক পায়স অন্ন রান্ধিল একে একে ।।
তুলসী মঞ্জরী দিআ কৃষ্ণে নিবেদিল ।
সারি দিআ সকল বৈষ্ণবে বসাইল ।।
ঘৃতান্নে সভারে দিল শাক মুগ সুপ ।
ছেনা বড়ি লাফরা পটোল বস্তুক ।।
হিঙ্গ ঝাল ঝোল ভাজা তোলা কাঁজি বড়া ।
বড়াম্বু শর্করা নাড়ু মিঠামুখ বিড়া ।।
[Page 65]
খিরি অমৃতগুটিকা খেবাড়া নবাত ।
মনোহর পুরি দুগ্ধপুলি দুগ্ধজাত ।।
আস্যা নারিকেল পুলি শাঁকর কাঁকরা ।
চন্দ্রকাতি পাএস পরমান্ন শর্করা ।।
গুটিকা ডালিমা মধু শ্রবাসাত পুলি ।
মন সন্তোষ নয়নসুখ গঙ্গাজল শিঅলি ।।
মচ্চ্যা ছেনা দুগ্ধ পুলি কোবা মুণ্ড শর ।
অনুপাম জগন্নাথ ভোগ সর্ব সুখসার ।।
পিঠা পানা ভোজনে বৈষ্ণবে সন্তোষিলা ।
মাল্য চন্দন দিয়া সভারে ভুষিলা ।।
কর্পূর তাম্বুল দিল দিল সরু বাস ।
কৃষ্ণকেলি দিয়া তুষ্ট কৈল শ্রীনিবাস ।।
লক্ষ্মী বিলাস দিল শ্রীহরিদাসে ।
সকল বৈষ্ণব গেলা নিজ নিজ বাসে ।।
এই মতে নবদ্বীপে বৈসে গৌরচন্দ্র ।
চৈতন্যমঙ্গল গীত রচে জয়ানন্দ ।।
[Page 124]

11. বৈরাগ্য-২৪

আগম নিগম গীতা করঙ্ক কৌপীন ।
বৈরাগ্য সংসার ছাড়ি হৈলা উদাসীন ।।
সিংহাসন পালঙ্ক ছাড়িয়া ভূমিশয্যা ।
ছাড়িল বৃন্দার সেবা কৃষ্ণ পরিচর্যা ।।
লক্ষ্মীর বিলাস ছাড়ি তরুতলে বাস ।
বৈরাগ্য ছাড়িল ঝাঁট হইব সন্ন্যাস ।।
রত্ন কুন্ডল হার হিরণ্য মাদুলি ।
সুখময় বসন না পরে কৃষ্ণকেলি ।।
বিষ্ণুতৈল ছাড়ি প্রভু সুগন্ধি পরাগ ।
চাঁচর কেশ ধূলাএ ধুসর তিন ভাগ ।।
জে ঠাকুর দিব্য মালা পরে শতে শতে ।
সে প্রভু গলে ডোর নাম গ্রন্থ কতে ।।
জে অঙ্গে কীর্তনানন্দে ধূলাএ ধূসর ।।
সুবাসিত কর্পূর তাম্বুল যার মুখে ।
সে প্রভু হরিতুকি খাএ কোন সুখে ।।
মহাবৈরাগ্য দেখি পার্ষদে উন্মাদ ।
তা দেখি গৌরাঙ্গ সভাএ করিল প্রসাদ ।।
[Page 125]
হেনকালে নিত্যানন্দ নবদ্বীপে আসি ।
সন্ন্যাসরহস্য যত গৌরাঙ্গে প্রকাশি ।।
শুনিয়া আনন্দ হইলা গৌরচন্দ্র ।
গঙ্গা পার হয়্যা আগে রৈলা নিত্যানন্দ ।।
মুকুন্দ দত্ত বৈদ্য গোবিন্দ কর্মকার ।
মোর সঙ্গে আস্য কাঁটোয়া গঙ্গাপার ।।
আচার্যরত্ন চন্দ্রশেখর আচার্য হরি ।
বাসুদেব দত্ত শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারী ।।
বক্রেশ্বর পন্ডিত ভগাই গঙ্গাদাস ।
তুমা সভার বিদ্যামানে লইব সন্ন্যাস ।।
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে বৈরাগ্যখণ্ড রচে জয়ানন্দ ।।
[Page 159]

12. উৎকল -১৬

একদিন চৈতন্য গোসাঞি সিংহদ্বারে ।
বৈষ্ণব মহিমা প্রকাশিল সভাকারে ।।
বৈষ্ণবের জন্ম কর্ম কে বলিতে পারে ।
বৈষ্ণবের জাতিভেদ কে বলিতে পারে ।
বৈষ্ণবের জাতিভেদ নাহিখ সংসারে ।
বৈষ্ণবের হৃদয়ে কৃষ্ণ সর্বদা বিহরে ।।
বৈষ্ণবের সঙ্গে কৃষ্ণ সতত রভস ।
বৈষ্ণবের স্তবে সে আপনি প্রভু বশ ।।
বৈষ্ণবের কুড়্যা ঘর কৃষ্ণের আলয় ।
বৈষ্ণবের শাক অন্ন কেবল সুধাময় ।।
বৈষ্ণবের খুদ মুষ্টি করঙ্কের জল ।
হাথ পাতি কৃষ্ণ তাহা নেন শকল ।।
বৈষ্ণবের তৃণশয্যা ছিড়া পাতে ভাত ।
ভোজনে শয়নে সুখ পান জগন্নাথ ।।
বৈষ্ণবের গুঞ্জাহার কৌস্তভ সমান ।
বৈষ্ণবের মৃত্তিকাভান্ডেতে জলপান ।।
বৈষ্ণবের কাশ্যাসন ফল হরিতকি ।
বৈষ্ণবের এ সব দ্রব্যেতেঁ কৃষ্ণ সুখি ।।
[Page 160]
বৈষ্ণবের তালপত্র ছত্র গিরি ধরে ।
ইন্দ্র-রাজছত্রে দৃকপাত নাই করে ।।
নিম্বকাঠ ঘসিয়া বৈষ্ণব কৃষ্ণে দেন ।
অবৈষ্ণবের চুয়া চন্দন নাঞি নেন ।।
বৈষ্ণব যে দ্রব্য খান কৃষ্ণ তাহা খান ।
বৈষ্ণব জথারে জান কৃষ্ণ তথা জান ।।
বৈষ্ণব সন্তোষ হইলে কৃষ্ণের সন্তোষ ।
বৈষ্ণব নিন্দাএ বড় কৃষ্ণের আক্রোশ ।।
বৈষ্ণবের দুঃখে কৃষ্ণের বড় দুঃখ ।
বৈষ্ণব বিমুখ জারে কৃষ্ণ বিমুখ ।।
বৈষ্ণব চরণধূলা পড়ে জার ঘরে ।
সবংশে পবিত্র হয়্যা জাএ বৈকুণ্ঠেরে ।।
বৈষ্ণবের পাদোদক পড়ে জখা জথা ।
সে স্থানের অমঙ্গল না হএ সর্বথা ।।
বৈষ্ণব ভোজন হএ কৃষ্ণের ভোজন ।
বৈষ্ণব শয়নে হয় কৃষ্ণের শয়ন ।।
অবশ্য বৈষ্ণবের অন্ন মাগিয়া খাইব ।
তাহা না পাইলে তবে জল ফুটি খাব ।।
তাহা না খাইলে হএ বেদের নিন্দা ।
পার্থ যেত বৈষ্ণব স্যান্নং তদ্ভাবে জানি ভবেৎ ।। শ্লোক ।।
বৈষ্ণবের আলিঙ্গন লাগে জার গাএ ।
তাহার অঙ্গের পাপ রসাতল জাএ ।।
বৈষ্ণবের অঙ্গে মালা চন্দন জে দেই ।।
বৈষ্ণব-ভোজন শেষ পত্র জেবা নেই ।।
প্রদক্ষিণ হঞা দন্ডবৎ হএ ভুমে ।
গঙ্গাদি সকল তীর্থফল পাএ জথাক্রমে ।।
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে উৎকলখণ্ড রচে জয়ানন্দ ।।
[Page 193]

13. প্রকাশ-১০

নীলাচলে চৈতন্য পারিষদ সঙ্গে বসি ।
রায় রামানন্দেরে কহিল প্রভু হাসি ।।
কৃষ্ণ হেন ঠাকুর না দেখি ত্রিজগতে ।
কৃষ্ণেরে ভজিল জীব নিস্তারে জে মতে ।।
কোন প্রকার করি জীব কৃষ্ণ জদি ভজে ।
কৃষ্ণেরে ভজিলে তারে ত্রিজগতে পুজে ।।
পরম বৈষ্ণব গোসাঞি নারদ ঠাকুর ।
যার নাম শ্রবণে পাতক জাএ দূর ।।
ইন্দ্রদ্যুম্ন মহারাজ তারে জিজ্ঞাসিল ।
ধ্বজারোপণ কথা নারদে কহিল ।।
সেই কথা শুন রামানন্দ রাএ ।
পাপী নিষ্পাপী মুক্ত কৃষ্ণের কৃপাএ ।।
পূর্বে সত্যযুগে এক রাজা চক্রবর্তী ।
সুমতি রাজার নাম ভার্য্যা সত্যবতী ।।
[Page 194]
চন্দ্রবংশে জন্ম রাজা ধর্মে তৎপর ।
একছত্রি রাজা সপ্তদ্বীপের ভিতর ।।
পবিত্র ধার্মিক রাজা কৃষ্ণকথাএ রত ।
শান্ত দান্ত জিতেন্দ্রিয় সরবগুণান্বিত ।।
রাজা রাজমহিষী দুজনে জাতিস্মর ।
দেউল দেহারা মঠ জলার্থে তৎপর ।।
দিব্য দেবা দেবে রাজা কৃষ্ণসেবা করে ।
দম্পত্য সহিত নৃত্য জম্বুদ্বীপান্তরে ।।
সত্যবতী অনেক সতী সব সঙ্গে করি ।
দেবালয়ে নৃত্য করে লজ্জা পরিহরি ।।
সহস্রেক শিষ্য সঙ্গে বিভাণ্ডক মুনি ।
দেখিবারে গেলা রাজার প্রতিষ্ঠা শুনি ।।
দ্বাদশী দিনে রাজা ধ্বজা রোপণ করে ।
হেনকালে বিভাণ্ডক গেল রাজদ্বারে ।।
পাদ্য অর্ঘ্য আচমনী চন্দন মালা দিয়া ।
মুনিরে বসাল্য রাজা ষড়ঙ্গে পূজিয়া ।।
আজি মোর সুপ্রভাত হইল রজনী ।
মোর দেবালয়ে আইল বিভাণ্ডক মুনি ।।
আজি কৃত কৃত্য মোর সফল জীবন ।
মহাভাগ সঙ্গে মোর হৈল সন্দর্শন ।।
বিভাণ্ডক বলে আইস রাজা চক্রবর্তী ।
সপ্তদ্বীপের রাজা হইলে কোন পুণ্য শক্তি ।।
তুমার স্ত্রী সকল লজ্জা পরিহারি কেন বাঁচি ।
নিরবধি বিষ্ণুর মন্দির বেড়িল নাচি ।।
ইহার কারণ মোরে কহ নৃপবর ।
ধ্বজা রোপণে কেন এতেক তৎপর ।।
রাজা বলে কোন ধর্ম করি নাঞি আমি ।
আর জন্মে শূদ্র ছিলাঙ নাম মালিনী ।।
আমার পাপের কথা কহনে না জায় ।
নানা দেশে ভ্রমিল্যাঙ নাহিখ সহায় ।।
দেবতার দ্রব্য চুরি করি বিপ্রধন ।
মদ্য শূকর মাংসে বেউশ্যার সঙ্গম ।।
স্ত্রীপুত্র মা বাপ ছাড়িল জ্ঞাতিবর্গ ।
মহাপাপী চোর তস্কর বড় উপসর্গ ।।
মনোদুঃখে এ কারণে ভ্রমি নিরন্তর ।
মৃগমাংস খাই মৃগ মারি নিরন্তর ।।
নিদাঘ কালে ক্ষুধা তৃষাএ পীড়িত ।
ভাঙ্গা দেবালয় তথা দেখিল আচম্বিত ।।
তাহার নিকটে এক সরোবর দেখি
হংস কারণ্ডব তাহে চরে নানা পাথি ।।
[Page 195]
চারিদিকে পুষ্পোদ্যান মাঝে দেবালয় ।
সরোবরে জল পীল সুশীতলময় ।।
বিষ্ণু দেবালয় আমি রহিল্যাঙ তথা ।
ভাঙ্গা ঘর ছাইলাঙ দিআ তৃণ কাষ্ঠ বাতা ।।
লেপিআ মুছিআ ঘর ব্যাধ মূর্তি করি ।
রহিল্যাঙ বিংশতি বৎসর মৃগ মারি ।।
হেন কালে এক রাজমহিষী দুঃখিতা ।
পরিবার ছাড়িয়া আইলা আমার তথা ।।
জীর্ণ বস্ত্র পরিধান আইল্যা সন্ধ্যাকালে ।।
দুঃখিত হইআ আমার ঠাঞি আসি মেলে ।।
এই দুঃখবতী দেখি দয়া উপজিল ।
মনস্তাপ দেখিআ সকল জিজ্ঞাসিল ।।
কোন জাতি কুথা ঘর কি নাম জিজ্ঞাসি ।
কি কারণে মহারণ্যে একলা ভ্রমসি ।।
সুশীতল জল দিল মাংস বন্য ফল ।
সুস্থির হইআ মোরে কহিল সকল ।।
চণ্ডাল কুলে জন্ম কুইলিনি মোর নাম ।
রূপ দাম্ভি করিলু পর্বতে বিশ্রাম ।।
সুন্দর সুস্থির যুবা বল্বন্ত স্বামী ।
তনু পরপুরুষেতে রত ছিল্যাঙ আমি ।।
নাক কান কাটিলেক অসতী দেখিআ ।
চৌসণ্ডির কুলে আমা রাখিল বান্ধিয়া ।।
পরপুরুষ সনে একশত বার ।
ধরিআ মারএ স্বামী না করে বিচার ।।
একদিন আমার কুবুদ্ধি সঞ্চরিল ।
গলাএ কাটারি দিআ স্বামীরে মারিল ।।
হেন স্বামী কাটিয়া হইল্যাঙ বাহির ।
একেলা ভ্রমিঞা বুলি কোথাহ নহি স্থির ।
দৈবযোগে দুই জনে হইল মিলনে ।
পচইশ বৎসর ঘর কৈল সেই বনে ।।
বর্ষাকালে মদ্য খায়্যা নাচিতে নাচিতে ।
কাপড় চিরিয়া ঠেঙ্গাএ বান্ধি আচম্বিতে ।।
পুতিয়া থুইল ঠেঙ্গা সেই ঘরের চুড়ে ।
বাতাসের ঠেঙ্গার ফালি ধ্বজা জেন উড়ে ।।
হেন কালে বজ্র পড়িল দুঁহার মুণ্ডে ।
দুই জনে প্রাণ ছাড়িল সেই দন্ডে ।।
[Page 216]
যমদূত আসি কত প্রহার করিতে ।
চারি বিষ্ণুদূত তথা আইল আচম্বিতে ।।
ছাড় ছাড় বলি গদার বাড়ি মেইল ।
বিষ্ণুদূতে আসিয়া সে দুঁহা উদ্ধারিল ।।
জে পাকে বৈকুণ্ঠে গেল্যাঙ শুন বিভাণ্ডক ।
মহাপাপী হআ তবু না গেল্যাঙ নরক ।।
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে প্রকাশখণ্ড গাএ জয়ানন্দ ।।
[Page 215]

14. বিজয়-১

এই অবধি হইল তীর্থখন্ড সাঙ্গ ।
বিজয়খন্ড প্রথম যাত্রা করিল গৌরাঙ্গ ।।
সপারিষদে আচার্য গোসাঞি নীলাচলে ।
নিত্যানন্দ স্বরূপ অক্ষয় বটমূলে ।।
হেনকালে চৈতন্য গদাধর সঙ্গে ।
ভবিষ্য কথা কহিতে লাগিলা নিজ রঙ্গে ।।
কলিযুগে হবেক জতেক দুরাচার ।
একে একে কহেন সকল সারোদ্ধার ।।
ব্রাহ্মণে হরিবেক বেদ ইন্দ্র হরিবেক জল ।
নানা ছলে রাজা অর্থ হরিবে সকল ।।
পৃথিবী হরিবেন শস্য রাজা ম্লেচ্ছ জাতি ।
কপিলা হরিবে ক্ষীরে স্বতন্ত্রা যুবতী ।।
ব্রাহ্মণ হরিবেক বেদ শূদ্র বৈশ্যাচার ।
ভগিনী হরিবে ভাই যুগের বেভার ।।
গুরুপত্নী হরিবেক শিষ্য পাপমতি ।
স্থাপ্য হরিবেক জত উত্তম জাতি ।।
ব্রহ্মস্ব দেবস্ব সব হরিব উত্তম ।
নীচ উচ্চ হবেক উত্তম অধম ।
কুলধর্ম হরিবেক যত বৃক্ষ লতা ।
কুলবধূ লজ্জা ভয় হরিব সর্বথা ।।
গঙ্গা হরিবেন জল ছাড়িব তুলসী ।
যবনে উচ্ছন্ন করিবেক বারানসী ।।
পুজাচর্য্যা হরিবেক জত দেবালয় ।
তীর্থ আগম্য হরিবেক জানিহ নিশ্চয় ।।
দেউল দেহারা মঠ ভাঙ্গিবে যবনে ।
সন্ধ্যা বেদ দেবার্চনা ছাড়িব ব্রাহ্মণে ।।
ক্ষেত্রি সত্বহীন হবে যুদ্ধে শৃগাল ।
তিন জাতি সবে লক্ষ্মী বাড়িবে বিশাল ।।
গোপোষণ বাণিজ্য ছাড়িব বৈশ্য দেবা ।
শূদ্র সব ছাড়িবেক ব্রাহ্মণের সেবা ।।
পৃথিবী ছাড়িব অবধূত যতি সতী ।
মৎস্য মাংস খাবে সব বিধবা যুবতী ।।
পিতা লঙ্ঘিবেক পুত্র গুরু লঙ্ঘিবেক শিষ্য ।
বিধবা ব্রাহ্মণী সব খাইব আমিষ্য ।।
স্বামী লঙ্ঘিবে স্ত্রী কপটী সংসার ।
ভাল বংশে জন্মিআ হবেক দুরাচার ।।
ব্রাহ্মণে ছাড়িব একাদশী যজ্ঞ দান ।
শূদ্রসব করিবেক পুরাণ বাখান ।
চন্ডালিনী শূদ্রী করিব একাদশী ।
উত্তম জনের ঘর ছাড়িব তুলসী ।।
[Page 216]
শূদ্রিণী লইআ ঘর করিব সন্ন্যাসী ।
অর্থ সঞ্চয় করিবেক জত তীর্থবাসী ।।
শূদ্রিণী লইআ ঘর করিবে ব্রাহ্মণ ।
ব্রাহ্মণী লইআ ঘর করিব সর্বজন ।।
সন্ন্যাসী করিব অর্থসঞ্চয় বানিজ্যা ।
শূদ্র-দেবালয়ে হবে কৃষ্ণ পরিচর্য্যা ।।
নাহা লুহা লবণ বেচিবে ব্রাহ্মণে ।
কন্যা বেচিবেক যে সর্বশাস্ত্র জানে ।।
[১৩৪খ]
ব্রাহ্মণে রাখিব দাড়ি পারস্য কহিবে ।
মোজা পাগড়ি হাথে কামান ধরিবে ।।
মনসবি আবৃত্তি করিবে দ্বিজবরে ।
ডাকা চুরি ঘাটি সাধিবেক নিরন্তরে ।।
শূদ্রে পুজিবেক মূর্তি শালগ্রাম শিলা ।
কার্যাপণে বিকাবেক সুরভি কপিলা ।।
ঘৃত মধু তিল কুশ যব জাতাঙ্কুর ।
দধি লাজ দূর্বা ধান স্বস্তিক সিন্দুর ।।
এ সব ছাড়িবেক পৃথ্বী কলি অবশেষে ।
অশ্বত্থ কদম্ব নিম্ব না থাকিব দেশে ।।
শঙ্খ ঘন্টা মৃদঙ্গ চামর চন্দ্রাতপ ।
কলিশেষে পৃথিবী ছাড়িব এ সব ।।
ছাগী প্রায় ধেনু হবে নৃত্য প্রায় মেঘ ।
অঙ্গুষ্ঠ প্রায় মনুষ্য পতঙ্গ প্রায় বেগ ।।
সাত আট বৎসরে স্ত্রী গর্ভ ধরিবে ।
এক গর্ভে পাঁচ সাত ছাওয়াল জন্মিবে ।।
শূদ্র জগৎগুরু হবে ম্লেচ্ছ হবে রাজা ।
রাজা সর্বস্ব নিবেক দুঃখী হবে প্রজা ।
পাপী দিঘা পূর্বাট মরিবেক সদগুন ।।
অল্প বিদ্যায় হবেক মহা বিদ্বান ।
অপ্লে ধনে হবেক সে মহা ধনবান ।।
কলিযুগে অল্প পূন্যে মুক্তিপদ পাই ।
কলি ধন্য সধন্য সর্বলোকে গাই ।।
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে বিজয়খণ্ড গাএ জয়ানন্দ ।।
[Page 220]

15. বিজয়-৫

শান্তিপুর চৈতন্য অদ্বৈত সঙ্গে রঙ্গে ।
অদ্বৈত জিজ্ঞাসে এক সন্ন্যাসী প্রসঙ্গে ।।
[Page 221]
চৈতন্যের কেবা হএ কেশব ভারতী ।
অদ্বৈত কহেন গুরু হএ শুন মহামতি ।।
শুনিঞা অদ্বৈতপুত্র অচ্যুতানন্দ ।
আচার্য্য গোসাঞি সঙ্গে করিলেন দ্বন্দ্ব ।।
অযোগ্য বলিলে গোসাঞি বড় দুঃখ পাই ।
কেশব ভারতী গুরু চৈতন্য গোসাঞি ।।
পাঁচ বৎসরের ছাওয়াল অচ্যুতানন্দ ।
রূপে কার্ত্তিক যেন দেখিতে সুছন্দ ।
গদাধর পন্ডিতের তিহোঁ এক শিষ্য ।
অদ্বৈতনন্দন যানে ভূত ভবিষ্য ।।
আই ঠাকুরানী গেলা অদ্বৈত মন্দিরে ।
প্রসাদ করিল বড় মুরারি গুপ্তেরে ।।
হেনকালে কুষ্ঠরোগী এক ব্রাহ্মণ ।
বৈষ্ণব নিন্দক ছিল বেদপরায়ণ ।।
শ্রীনিবাসের দ্বারে হয়্যাছে অপরাধ ।
তারে আজ্ঞা দিল প্রভু করিয়া প্রসাদ ।।
বৈষ্ণবনিন্দক তার দেহে কুষ্ঠ হএ ।
অদৃশ্য অস্পৃশ্য হয়্যা জা এ যমালয় ।।
জে মুখে কাঁটা ফুটে সে মুখে বাহিরাএ ।
শ্রীনিবাসে ভজ গিয়া হইবে সহায় ।।
আচার্য্য গোসাঞির গুরু মাধবেন্দ্র পুরী ।
উপদেশ দিয়াছিলা বুঝিতে না পারি ।।
তার আরাধনা দিবস নিকট হইল ।
রন্ধনের অধিকার আই ঠাকুরাণী নিল ।।
কীর্তন্যা মুকুন্দ মুরারি গুপ্ত ভাণ্ডারী ।
ঝাঁটি ছড়া দেই ভবানন্দ অধিকারী ।।
গোবিন্দ গোবিন্দআনন্দ শঙ্খ বাজাএ ।
বুদ্ধিমন্ত খান চন্দন দেই গাএ ।।
চন্দ্রশেখর গোপীনাথ শ্রীগর্ভ নন্দন ।
শ্বেত চামর ঢুলাএ এই চারি ব্রাহ্মণ ।।
দামোদর স্বরূপ পরমানন্দ পুরী ।
ভোজন করান হাথে বেত্র ধরি ।।
পটোল বাস্তুক শাকের পরিপাটি ।
বাসুদেব দত্ত জানেন ইহার পরিপাটি ।।
বক্রেশ্বর দামোদর দেন প্রসাদমালা ।
কেহো প্রসাদ খাএ কেহো চিড়া কলা ।।
ঘৃত মধু চিড়া গুড় নবাত শর্করা ।
নাছে বাটে ঘাটে কত ফুলের পশরা ।।
আম্র নারিকেল কাঁটাল দধি দুগ্ধ ।
ধুপ দীপ চন্দন অগোর যব মুদ্গ ।।
খাহ লেহ দেহ এই এই মাত্র শুনি ।
আনন্দে নাচেন চৈতন্য শিরোমণি ।।
রাত্রিকালে কত বর্ণে লোক আইসে জায় ।
নাছে বাটে শান্তিপুরে সভে নাচে গায় ।।
রজনী প্রভাত হইল আরাধনা সাঙ্গ ।
কুমারহট্ট চলিলা ঠাকুর গৌরাঙ্গ ।।
শ্রীনিবাস মন্দিরে রহিলা কুমারহট্টে ।
আচার্য্য পুরন্দর জিজ্ঞাসিলা বল্লভ ভট্টে ।।
শিবানন্দ সেন গেলা বাসুদেব দত্ত ।
কহিতে লাগিলা বাসুদেবের মহত্ত্ব ।।
[Page 222]
বাসুদেবের কিনা আমি শুন শ্রীনিবাস ।
বাসুদেব দত্ত আমাএ করাএ প্রকাশ ।।
শ্রীনিবাসে জিজ্ঞাসিলা কেমতে কুলাহ ।
এত পরিকর ইহাএ কি ধন ভাঙ্গাহ ।।
সংসার না চলে জদি শুন শ্রীনিবাস ।
সকল ছাড়িয়া তুমি করহ সন্ন্যাস ।।
হাথে তিন তালি দিয়া বলেন শ্রীনিবাস ।
লাগে লাগে হএ জদি তিন উপবাস ।।
নহে নহে ঘরে মুষ্টিভিক্ষা করিব ।
গলাএ কলসী বান্ধি গঙ্গাএ মরিব ।।
ইহা শুনি হাসি হাসি বলে দয়ানিধি ।
আর দুঃখ তুমি না পাইবে জন্মাবধি ।।
তবে শত শত পারিষদ নিত্যানন্দ সঙ্গে ।
গোসাঞি গেলা পানিহাটি গ্রাম নিজ রঙ্গে ।
রাঘব পন্ডিত ঘরে ভোজন করিল ।
রাঘবের শাক অন্ন প্রভু প্রশংসিল ।।
শাকে বড় প্রিয় গোসাঞি আম্রে বড় প্রিয় ।
শ্রীনিবাস বলে রাঘব জিয় জিয় ।।
নিত্যানন্দ বলেন আমি শাক খাই নাঞি ।
সভারে খাওয়াএ চৈতন্য গোসাঞি ।।
বৌশার পড়িল শাকে জত করেন ব্যয় ।
জত জত দেন শাক ততোধিক হএ ।।
অদ্যাপি ঘোষণা আছে এই পানিহাটি ।
রাঘবের শাক অন্ন পরিপাটি ।
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদন্দ্ব ।
আনন্দে বিজয়খণ্ড গাএ জয়ানন্দ ।।

This text is in its original language, and has an English translation:
Translation

This is a selection from the original text

Keywords

অনাবৃষ্টি, অন্ন, দুগ্ধ, দুর্ভিক্ষ, মড়ক, মড়ক, শাক

Source text

Title: Chaitanyamangal

Author: Jayananda

Publisher: The Asiatic Society

Publication date: 1971

Original compiled c.1550-1560

Edition: 2nd Edition

Place of publication: Kolkata

Provenance/location: This text was transcribed from images available at the Digital Library of India: http://www.dli.ernet.in/. Original compiled c.1550-1560

Digital edition

Original author(s): Jayananda

Language: Bengali

Selection used:

  • 1 ) pages 10 to 15
  • 2 ) page 19
  • 3 ) pages 20 to 21
  • 4 ) pages 24 to 25
  • 5 ) pages 27 to 28
  • 6 ) pages 32 to 33
  • 7 ) pages 64 to 65
  • 8 ) pages 124 to 125
  • 9 ) pages 159 to 160
  • 10 ) pages 193 to 196
  • 11 ) pages 214 to 215
  • 12 ) pages 220 to 222

Responsibility:

Texts collected by: Ayesha Mukherjee, Amlan Das Gupta, Azarmi Dukht Safavi

Texts transcribed by: Muhammad Irshad Alam, Bonisha Bhattacharya, Arshdeep Singh Brar, Muhammad Ehteshamuddin, Kahkashan Khalil, Sarbajit Mitra

Texts encoded by: Bonisha Bhattacharya, Shreya Bose, Lucy Corley, Kinshuk Das, Bedbyas Datta, Arshdeep Singh Brar, Sarbajit Mitra, Josh Monk, Reesoom Pal

Encoding checking by: Hannah Petrie, Gary Stringer, Charlotte Tupman

Genre: India > poetry

For more information about the project, contact Dr Ayesha Mukherjee at the University of Exeter.

Acknowledgements